খবরবাংলা ডেস্ক :
ক্রীড়াঙ্গনে কুসংস্কার বা ‘লাকি চার্ম’-এ বিশ্বাস নতুন কিছু নয়। অনেক তারকা খেলোয়াড়ই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নির্দিষ্ট কিছু অভ্যাস অনুসরণ করেন। বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরেও তেমনই একটি ঘটনা আলোচনায় এসেছে স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়াকে ঘিরে।
ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার যেমন সবসময় বাঁ পায়ে প্রথমে প্যাড পরতেন, তেমনি ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালেও একটি বিশেষ বিশ্বাস আঁকড়ে ধরেছিলেন। পরে সাবেক ওপেনার বীরেন্দর শেবাগ জানান, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে দুজন দ্রুত আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার পর শচীন তাকে নিজের আসন থেকে না ওঠার অনুরোধ করেছিলেন। ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা দুজনই একই জায়গায় বসে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ জেতে ভারত।
এবার ফুটবল বিশ্বকাপেও আলোচনায় এসেছে স্পেনের একটি ‘লাকি রিচুয়াল’। ফাইনালের আগে অনুশীলনের সময় মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সাইডলাইনের পাশে একটি কয়েন মাটিতে পুঁতে রাখেন স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়।
পরে স্পেনের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ডিফেন্ডার হোয়ান ক্যাপদেভিলা জানান, তিনিই কুকুরেয়াকে এমনটি করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে তিনিও একইভাবে মাঠে একটি কয়েন পুঁতে রেখেছিলেন। সেই আসরে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের আগে একই ‘রিচুয়াল’ অনুসরণ করেন কুকুরেয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাপদেভিলা লেখেন, “একটা গোপন কথা বলি। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আমিও ঘাসের মধ্যে একটি কয়েন লুকিয়ে রেখেছিলাম। এবার সেই গল্প কুকুরেয়াকে বলেছিলাম, আর সে-ও একই কাজ করেছে। কুকুরেয়া, তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তুমি এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।”
তবে মাঠে সাফল্যের পেছনে কুসংস্কারের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। খেলোয়াড়দের দক্ষতা, কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা ও দলগত পারফরম্যান্সই ম্যাচের ফল নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখে। অনেকের কাছে এসব অভ্যাস আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ব্যক্তিগত রুটিন বা মানসিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











