খবর বাংলা ডেস্ক :
মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে না নামা এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী উৎপাদন বৃদ্ধি না পাওয়ায় আসন্ন জাতীয় বাজেট প্রণয়নকে ঘিরে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবও দেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
এ অবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বস্তি দিতে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব করনীতি গ্রহণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাজেট বাস্তবায়ন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে উন্নয়ন খাতের তুলনায় পরিচালন ব্যয়—যেমন বেতন-ভাতা, ভর্তুকি ও ঋণ পরিশোধ—এ বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে স্বল্প আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে উৎপাদন, প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান—কোনোটিই কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাবে না।
নতুন বাজেটে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোও গুরুত্ব পাবে। এর মধ্যে রয়েছে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং ফ্যামেলি, হেলথ ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন।
বিআইআইএসএস-এর গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জন করতে হলে প্রায় ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যেখানে বর্তমানে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এজন্য বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
এদিকে আর্থিক খাত এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। বিশাল ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় নতুন বাজেটে কার্যকর দিকনির্দেশনার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্য সূত্র : যমুনা টিভি











