খবর বাংলা ডেস্ক :
আগামী মাস থেকেই বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে গণশুনানি শেষ করে মে মাসের মধ্যেই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হতে পারে। সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে জুন থেকেই গ্রাহকদের গুনতে হবে বাড়তি বিল।
জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পর বিদ্যুতের দাম বাড়ার খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, নিত্যপণ্যের দাম ও আয় স্থির থাকায় নতুন এই খরচ তাদের জীবনযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো সর্বোচ্চ ২৯ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। পাইকারি, খুচরা ও সঞ্চালন ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তিতে এই প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার গণশুনানির মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করছে বিইআরসি।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং এর অধীনস্থ সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানিগুলো মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। গণশুনানিতে পাওয়া মতামত পর্যালোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশেও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্য ও এলপি গ্যাসের বাজারেও।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনায় সাধারণ মানুষ বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা অব্যাহত থাকলেও বিল বাড়ানো হলে তাদের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হবে। আয় না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সরকারি হিসাবে, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ২ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দাম সমন্বয় না করলে ২০২৬ সালে এই ঘাটতি ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শুধু বিল নয়, সামগ্রিকভাবে দ্রব্যমূল্যেও প্রভাব পড়বে। সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, এটি জনজীবনে বড় চাপ তৈরি করবে এবং অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির প্রবণতা বাড়তে পারে।
এদিকে দেশের প্রায় ৫ কোটি গ্রাহকের মধ্যে যারা ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন, তাদের জন্য ‘লাইফলাইন’ সুবিধা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। আগে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত কম দামের সুবিধা থাকলেও এবার তা সীমিত করার কথা ভাবা হচ্ছে। এতে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তথ্য সূত্র : যমুনা টিভি











