খবরবাংলা ডেস্ক :
বর্ষা মৌসুমে সাপের কামড়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশের সব জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন সরবরাহ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাপে কাটলে রোগীরা সরকারি হাসপাতালেই বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম পাবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) লাইন ডিরেক্টর মো. হালিমুর রশীদ বলেন, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সাপের কামড়ের রোগীদের চিকিৎসা বিষয়ে চিকিৎসকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জমান জানান, তাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। একই তথ্য জানিয়েছেন সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত ও রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসাও।
চিকিৎসকরা সবাইকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, সাপে কাটলে ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালে যেতে হবে। সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করলে অধিকাংশ রোগীকেই সুস্থ করা সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। এর মধ্যে ২৫ থেকে ২৭ লাখ মানুষের শরীরে বিষ প্রবেশ করে। প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৫ লাখ মানুষ স্থায়ী অক্ষমতার শিকার হন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ৫১১ জনের মৃত্যু হয়। আক্রান্তদের প্রায় ৯৫ শতাংশই গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা এবং নারীদের তুলনায় পুরুষদের ঝুঁকি বেশি।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











