খবরবাংলা ডেস্ক :
হৃদরোগের লক্ষণ, ঝুঁকি ও প্রভাব পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে সবসময় এক রকম হয় না। একই বয়স হলেও হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ধারণে নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ২০ বছরের বেশি অভিজ্ঞ এক কার্ডিওলজিস্ট।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ও ফাংশনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সঞ্জয় ভোজরাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদরোগের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের পার্থক্য নিয়ে কথা বলেছেন।
তার মতে, শুধু বয়স বা কোলেস্টেরলের মাত্রা দেখে হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ধারণ করা যথেষ্ট নয়। রোগীর পারিবারিক ইতিহাস, উচ্চ রক্তচাপ, বিপাকীয় সমস্যা এবং অন্যান্য শারীরিক তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, পুরুষদের তুলনামূলক কম বয়সেই হৃদ্রক্তনালির রোগ দেখা দিতে পারে। পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস, উচ্চ রক্তচাপ বা বিপাকীয় সমস্যার মতো ঝুঁকি থাকলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তাই ৪০ বা ৫০ বছর বয়সী কোনো পুরুষের এসব ঝুঁকি থাকলে উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে আগেই হৃদস্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
অন্যদিকে নারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়নে বয়স ও কোলেস্টেরলের পাশাপাশি জীবনের বিভিন্ন পর্যায় এবং হরমোনজনিত পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ বা প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার ইতিহাস এবং মেনোপজ শুরুর সময় সম্পর্কে চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন হতে পারে।
কার্ডিওলজিস্টের মতে, পুরুষদের সাধারণত কম বয়সে এবং তুলনামূলক বেশি করোনারি প্লাক তৈরি হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে মেনোপজের পর তুলনামূলক কম প্লাক থাকলেও হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা বা বুকে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
এ কারণে একই বয়সের দুই ব্যক্তির শুধু বয়স ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বিবেচনা করে হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ধারণ করা ঠিক নয়। ব্যক্তির পারিবারিক ইতিহাস, রক্তচাপ, বিপাকীয় অবস্থা এবং নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা ও মেনোপজের ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বুকে অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞের এই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া; এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











