খবরবাংলা ডেস্ক :
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি দিনের বেশির ভাগ সময় ঘুম ঘুম লাগে, তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। অনেকেই এটিকে অলসতা মনে করলেও চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত তন্দ্রাভাব বিভিন্ন শারীরিক, মানসিক কিংবা জীবনযাপনের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ করা, শরীরচর্চার অভাব, একঘেয়ে কাজ, রাতের শিফটে দায়িত্ব পালন বা অনিয়মিত ঘুমের কারণে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়। এর ফলে দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।
এছাড়া থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি, ডায়াবেটিস, রক্তশূন্যতা, কিডনি বা লিভারের সমস্যা এবং পানিশূন্যতা থাকলেও সারাক্ষণ ক্লান্তি ও তন্দ্রাভাব অনুভূত হতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, রাতে ভালোভাবে ঘুম না হওয়া, স্লিপ অ্যাপনিয়া, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অতিরিক্ত ঘুমের অন্যতম কারণ।
যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
- সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা
- মাথাব্যথা বা মাথা ঝিমঝিম করা
- মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
- খিটখিটে মেজাজ
- কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়া
সমস্যা কমাতে যা করবেন বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ, দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে না থাকা এবং স্ক্রিনে কম সময় কাটানো উপকারী হতে পারে। ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? যদি দুই থেকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকে, দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায় বা এর সঙ্গে অন্য শারীরিক উপসর্গ যুক্ত হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











