খবরবাংলা ডেস্ক :
কাছের কোনো মানুষ এমন কিছু করছেন, যা আপনার ভালো লাগছে না? বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কথা বলার পরও যদি তাঁর আচরণে পরিবর্তন না আসে, তাহলে হতাশ হওয়া স্বাভাবিক। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ভাবেন, কীভাবে অন্য মানুষটিকে বদলানো যায়।
তবে বাস্তবতা হলো, অন্য একজন মানুষ কীভাবে আচরণ করবেন, তা সবসময় নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। মনোবিজ্ঞানভিত্তিক পরামর্শ বলছে, তাই অন্য ব্যক্তি বদলাবেন কি না, শুধু সেটির অপেক্ষায় না থেকে নিজের প্রয়োজন ও সীমারেখা স্পষ্ট করাই বেশি কার্যকর হতে পারে।
আগে বুঝুন, আপনি আসলে কী চান কেউ কোনো একটি কাজ করছেন—আপনি সেটি বন্ধ করতে চাইছেন কেন, প্রথমে সেই কারণটি বোঝার চেষ্টা করুন। কারণ কোনো আচরণের পেছনে সাধারণত নির্দিষ্ট প্রয়োজন, উদ্বেগ বা প্রত্যাশা থাকে।
যেমন, পরিবারের কেউ যদি আপনার সন্তানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন, আপনার আপত্তির কারণ হতে পারে সন্তানের ব্যক্তিগত তথ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।
আবার কোনো বন্ধু যদি নিয়মিত আপনার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন, তখন আপনার প্রয়োজন হতে পারে সম্মান পাওয়া কিংবা নিজের সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দেওয়া।
তাই শুধু ‘ওকে এটা করা বন্ধ করতে হবে’—এভাবে না ভেবে নিজেকে প্রশ্ন করুন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমার আসল প্রয়োজন কী?’
নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিন অন্য একজন কী করবেন, তা আপনি সবসময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। তবে সেই পরিস্থিতিতে আপনি কী করবেন, সেটি অনেকটাই আপনার হাতে।
ধরা যাক, পরিবারের কোনো সদস্যকে আপনার সন্তানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে না দিতে অনুরোধ করলেন। তিনি রাজি না হলে ছবি পাঠানো কমিয়ে দেওয়া কিংবা প্রকাশিত ছবি সরানোর অনুরোধ করার মতো বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারেন।
অর্থাৎ, নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্য সবসময় অন্য ব্যক্তির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করতে হবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের আচরণ ও সিদ্ধান্তেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
‘ভুল তো ও করছে’—এই ভাবনায় আটকে থাকবেন না অনেক সময় আমরা মনে করি, অন্য ব্যক্তিই যখন ভুল করছেন, তখন পরিবর্তনটা কেন আমাকেই করতে হবে? এই অনুভূতি স্বাভাবিক।
কিন্তু অন্য ব্যক্তি কী করা উচিত, তা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে গিয়ে নিজের করণীয়ের সুযোগটি হারিয়ে ফেললে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।
আপনার পছন্দের সমাধান সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে। কোনো বিকল্প হয়তো অস্বস্তিকর কিংবা কিছুটা অসুবিধার মনে হতে পারে। তবু সেটি যদি আপনার প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করে, তাহলে তা বিবেচনা করা যেতে পারে।
অন্যের আচরণ থেকেও সম্পর্ক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় আপনি নিজের প্রয়োজন স্পষ্টভাবে জানানোর পর অন্য ব্যক্তি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি যদি আপনার কথা বোঝার চেষ্টা করেন এবং আচরণে পরিবর্তন আনেন, তাহলে সেটি সম্পর্কের প্রতি তাঁর যত্ন ও গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
অন্যদিকে, বারবার নিজের প্রয়োজন জানানোর পরও যদি তিনি আপনার সীমারেখাকে উপেক্ষা করেন, সেটিও সম্পর্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। তখন ভবিষ্যতে তিনি বদলে যাবেন—শুধু এই আশায় না থেকে তাঁর বর্তমান আচরণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
সীমারেখা মানে শুধু ‘না’ বলা নয় স্বাস্থ্যকর সীমারেখা তৈরি করার অর্থ অন্য সবাইকে নিজের ইচ্ছামতো চলতে বাধ্য করা নয়। বরং নিজের প্রয়োজন বোঝা, সেটি স্পষ্টভাবে জানানো এবং প্রয়োজন পূরণের জন্য নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিদ্ধান্ত নেওয়াই এর মূল বিষয়।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রথমে পরিস্থিতিতে নিজের প্রয়োজন চিহ্নিত করতে হবে। এরপর সেই প্রয়োজন পূরণের সম্ভাব্য উপায়গুলো ভাবতে হবে। সেখানে অন্য ব্যক্তির আচরণ পরিবর্তনের পাশাপাশি নিজের করণীয়ও বিবেচনায় রাখতে হবে।
এরপর বাস্তবসম্মত একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তা প্রয়োগ করতে হবে। তাতেও প্রয়োজন পূরণ না হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের সীমারেখা নতুন করে নির্ধারণ করা যেতে পারে।
সব মানুষকে নিজের ইচ্ছামতো বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তবে নিজের প্রয়োজন, সিদ্ধান্ত ও সীমারেখা সম্পর্কে পরিষ্কার থাকা সম্ভব। তাই কেউ পরিবর্তন হতে না চাইলে বারবার তাঁকে বদলানোর চেষ্টা না করে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়াই মানসিক শান্তি ও সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।











