টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
জ্বালানি তেলের সংকটে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন এখন নিত্যদিনের দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। দিন-রাতজুড়েই পাম্পগুলোতে তেল নিতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে শত শত যানবাহনকে। কয়েক লিটার জ্বালানির জন্য চালকদের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইলের কয়েকটি ফিলিং স্টেশনের সামনে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের সারি। লাইনে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেশি হলেও প্রাইভেটকার, ট্রাক এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত মাহিন্দ্রা গাড়িও দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, রাতে বড় যানবাহনের জন্য ডিজেল এবং দিনে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের জন্য পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ করা হলে এই দুর্ভোগ অনেকটা কমে আসত। কিন্তু একই সময়ে সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহের কারণে পাম্প এলাকায় ভয়াবহ যানজট তৈরি হচ্ছে।
ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি তমা ফিলিং স্টেশনে মাহিন্দ্রা ড্রামট্রাক নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন চালক রবিউল ইসলাম। শুক্রবার সকাল পর্যন্তও তিনি জ্বালানি পাননি। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দুপুরের পর তেল পাওয়া যেতে পারে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে করতে লাইনে দাঁড়িয়েই ঘুমিয়ে পড়েন রবিউল।
একই চিত্র দেখা গেছে অন্য চালকদের মাঝেও। ঘারিন্দা থেকে আসা মোটরসাইকেল চালক দুলাল মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও এখনো জ্বালানি পাননি। কেউ গাড়ির ভেতরে, কেউ বাইরে অপেক্ষা করছেন। একই সময়ে ডিজেল ও পেট্রোল সরবরাহ করায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চাপ তৈরি হয়ে সড়কে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরেক মোটরসাইকেল চালক জামাল উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন তেল এলে ভিড় কিছুটা কম থাকে। কিন্তু দুই-তিন দিন পর পর তেল এলে ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়বে।
টাঙ্গাইল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার লোটন জানান, আজকের জন্য তাদের কাছে ১৮ হাজার লিটার ডিজেল এবং ৯ হাজার লিটার পেট্রোল মজুত রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তিনি বলেন, বিপুল চাহিদার কারণে সরবরাহের তুলনায় চাপ বেশি থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।











