নিজস্ব প্রতিবেদক :
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে হামের টিকার পরিবর্তে এক মাস বয়সী শিশুকে দেয়া হয়েছে জলাতঙ্কের (কুকুর) ভ্যাকসিন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম ওই শিশুকে এই ভ্যাকসিন প্রদান করেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ রোগীর পরিবার ভুল চিকিৎসার জন্য বিচার দাবী করেছেন। ঘটনা জানাজানির পর হাসপাতালে শিশু রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার করেছে স্থানীয়দের। কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের মৌ খাতুন বুধবার দুপুরে তার এক মাস ৫ দিন বয়সী শিশু ফাহিতাকে হামের টিকা দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। এসময় সেখানে দায়িত্বরত স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম হামের টিকার পরিবর্তে ওই শিশুকে দুই ডোজ জলাতঙ্কের র্যাবিক্স ভ্যাকসিন প্রদান করে। এর কিছুক্ষণ পর শিশুর শারিরীক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ঘটনাটি প্রকাশ পেলে স্বজনরা এর প্রতিবাদ করে। মুহুর্তেই ঘটনাটি প্রচার হওয়ার পর হাসপাতালে আসা অন্যান্য শিশুর স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম অবসর যাওয়ার পর সেখানে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরুর। কিন্তু নুরুল ইসলাম হাসপাতালে না থাকায় অবসরে থাকা কাইয়ুমকে দিয়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিশুর পরিবার জানায়, প্রতিবাদ করলে খারাপ ব্যাবহার করেন কাইয়ুম ও নুরুল ইসলাম। শিশুটি ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাফলতিকে দায়ী করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে শিশুটির পরিবার।
উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম বলেন, ভুল বসতভাবে হামের টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত। তিনি অবসরে চলে গেছেন। তারপরও ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালানোর জন্য তাকে নেয়া আসা হয়েছিল।











