খবর বাংলা ডেস্ক :
দেশজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি। অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে গিয়ে হিট স্ট্রোকের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই এই সময়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, হিট স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়ে যাওয়া। এছাড়া প্রচণ্ড গরমেও ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, বমি ভাব, তীব্র মাথাব্যথা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, আচরণে অসংলগ্নতা, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন, প্রস্রাব কমে যাওয়া, খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ছায়াযুক্ত বা ঠাণ্ডা স্থানে নিতে হবে। শরীরের অতিরিক্ত কাপড় খুলে ঠাণ্ডা পানি বা ভেজা তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। বিশেষ করে বগল, ঘাড় ও কুঁচকির মতো স্থানে ঠাণ্ডা পানি প্রয়োগ করলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে।
রোগীর জ্ঞান থাকলে তাকে পানি, ডাবের পানি বা খাবার স্যালাইন পান করানো যেতে পারে। একই সঙ্গে রোগীকে শুইয়ে পা কিছুটা উঁচু করে রাখতে হবে। তবে রোগী জ্ঞান হারালে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং হালকা রঙের সুতির পোশাক পরা প্রয়োজন। বাইরে বের হলে ছাতা বা মাথা ঢাকার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি এই গরমে কঠোর পরিশ্রম, ব্যায়াম, অতিরিক্ত চা-কফি ও ধূমপান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপই পারে তীব্র গরমে হিট স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











